বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬
ব্যাংক

প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কড়া সতর্কবার্তা

সেবা খাতের আয় ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ঘোষণা করতে হবে না। গত ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এমন নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, কিছু কিছু ব্যাংক অপ্রয়োজনীয় তথ্য এবং ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ফরম সি ঘোষণা করে গ্রাহকদের হয়রানি করছে। ফলে

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার ব্যাংকার্স মিটিংয়ে গ্রাহক হয়রানি বন্ধে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার।

বৈঠক সূত্র জানায়, বিদেশে কর্মরত প্রবাসীরা কোনো ঘোষণা ছাড়াই যেকোনো পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠাতে পারবেন। তবে বাংলাদেশে যারা বিদেশে কাজ করেন, তাদের টাকা আনার ঘোষণা দিতে হবে।

কোথা থেকে আয় হচ্ছে, পরিমাণ, কাজের ধরন, অনেক ক্ষেত্রে প্রমাণসহ বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকের মাধ্যমে অনলাইনে ‘সি-ফর্ম’-এ তথ্য দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ডিক্লারেশনের প্রয়োজন হবে না বলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে গ্রাহকরা হয়রানি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০ হাজার ডলারের কম প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় তথ্য গ্রহণের প্রবণতা এবং ফরম সি-তে ঘোষণার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে কিছু ব্যাংকের।

USD ২০,০০০ এর নিচে প্রত্যাবাসিত অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্সের জন্য সি-ফর্ম-তে ঘোষণা করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, যদিও অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্সের উপর প্রযোজ্য কর কাটার উদ্দেশ্যে সঠিক পরিষেবা কোড নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু ব্যাংক এসব মেনে নিয়ে গ্রাহকদের হয়রানি করছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন মেনে গ্রাহকদের অনুকূলে দ্রুত রেমিট্যান্সের টাকা বিতরণের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেন।

এক সময় ফ্রিল্যান্সাররা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে সফটওয়্যার, ওয়েব ডেভেলপমেন্টসহ বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং সেবা রপ্তানির আয় আনতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতেন। যার কারণে এ ধরনের আয়ের বেশির ভাগই হুন্ডিতে আনতে হয়েছে। তাই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে এই আয় আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন নীতি সহায়তা প্রদান করছে।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নির্দেশনার মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশ দেয়।

MFS বা বৈদেশিক মুদ্রা শাখার মাধ্যমে আয়ের প্রত্যাবাসন নেই এমন এলাকার ফ্রিল্যান্সারদের নিকটতম AD শাখা, কেন্দ্রীয় ট্রেড প্রসেসিং সেন্টার বা হেড অফিসের সহায়তায় অন্যান্য মাধ্যমে একটি ‘ERQ’ অ্যাকাউন্ট খুলতে বলা হয়। একই সময়ে, আন্তর্জাতিক ডেবিট, ক্রেডিট বা প্রিপেইড কার্ড ইস্যুও এই অ্যাকাউন্টগুলির বিরুদ্ধে নির্দেশিত হয়।

এদিকে আমদানি-রপ্তানি নিয়ে অনেক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ভুল তথ্য দিচ্ছে। তাই সঠিক তথ্য দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, প্রতিটি শাখা থেকে এলসি খোলার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনলাইন ইমপোর্ট মনিটরিং সিস্টেমে (ওআইএমএস) তথ্য আপলোড করতে হয়। ড্যাশবোর্ডে গত জুন পর্যন্ত বকেয়া আমদানি বিল দেখানো হয়েছে ৪ হাজার ৯ কোটি ডলার।

আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে আলাদাভাবে তথ্য সংগ্রহ করে বকেয়া রয়েছে ২ হাজার ৩৭৩ মিলিয়ন ডলার।

এর অর্থ, ব্যাংকে সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আমদানি বকেয়া তথ্যের ফারাক রয়েছে ১ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ডলার, যা ১ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকা।

দুই তথ্যের এত বড় পার্থক্যের কারণ জানতে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সময়মতো এবং নির্ভুলভাবে রিপোর্ট করতেও বলা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন প্রতিটি এলসির তথ্য আলাদাভাবে দেওয়ার পাশাপাশি ওই দিনের জন্য একটি ব্যাংকের সব এলসির তথ্য একসঙ্গে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

কিন্তু অনেক ব্যাংক তা মানছে না। আগামী দুই মাসের মধ্যে এসব নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, এত পার্থক্যের কারণ ব্যাংকগুলো ভালো বলতে পারবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শাখা থেকে ভুল প্রতিবেদনের কারণে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *