বুধবার, জুন ৩, ২০২৬
এক্সক্লুসিভ

সিলভা ফার্মার আর্থিক সক্ষমতা খতিয়ে দেখবে বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

গত পাঁচ বছর ধরে লোকসানে থাকা কোম্পানিটি তালিকাভুক্তির পর ছয় বছরেও আইপিও অর্থ ব্যবহার করতে না পারায় এবং আইপিও অর্থ ব্যয়ে আইনের ব্যত্যয়ের অভিযোগ ওঠায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সিলভার সম্পদ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও আর্থিক সক্ষমতা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন সদস্যের এ কমিটিকে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন বিএসইসির উপ-পরিচালক মো. মাওদুদ মোমেন, সহকারী পরিচালক তন্ময় কুমার ঘোষ এবং মো. মারুফ হাসান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোম্পানিটির ২০২০ সালের ৩০ জুন থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আর্থিক প্রতিবেদন, সম্পদ, দায়, নগদ প্রবাহ, কাঁচামাল সংগ্রহ ও ব্যবহার, ব্যাংক লেনদেনসহ একাধিক বিষয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধান চালানো হবে।

বিশেষ করে আইপিও অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এবং হিসাবপত্রে অসঙ্গতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। একইসঙ্গে আইপিওর আগে মূলধন সংগ্রহ ও ব্যবহার, প্রাক-আইপিও সম্পদের মালিকানা, প্রকৃত দখল এবং প্রসপেক্টাসে প্রকাশিত তথ্যের সত্যতাও যাচাইয়ের আওতায় পড়বে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ‘পিনাকী অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস’-এর এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সিলভার বিরুদ্ধে আইপিও অর্থ ব্যবহারে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। এরপরই বিএসইসি এ উদ্যোগ নেয়।

এদিকে কোম্পানিটি একের পর এক বছর লোকসানে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ০.৪৭ টাকা, আগের বছর যা ছিল ০.২৪ টাকা। সর্বশেষ দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০২৪) লোকসান হয়েছে ০.১৯ টাকা। ছয় মাসে লোকসান দাঁড়িয়েছে ০.৪৩ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় তিনগুণের বেশি।

২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ১৬.৫৩ টাকা এবং একই বছরের ডিসেম্বর শেষে তা দাঁড়িয়েছে ১৬.০২ টাকায়। ওই বছর মাত্র ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি।

২০১৮ সালে পুঁজিবাজারে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত হওয়া সিলভার পরিশোধিত মূলধন ১৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের হাতে ৪৫.২১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৫.৭৮ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ০.০১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৩৯ শতাংশ শেয়ার।

২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকায়।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে নেওয়া এ তদন্তকে বিএসইসি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে মনে করছে। তদন্তে আইনের ব্যত্যয় ও আর্থিক অনিয়ম প্রমাণিত হলে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *