শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬
অনুসন্ধানী রিপোর্ট

ন্যাশনাল ফিড মিলস লিমিটেডের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যাপক অনিয়ম

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ন্যাশনাল ফিড মিলস লিমিটেডের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যাপক অনিয়ম ও অসংগতির চিত্র ফুটে উঠেছে। কোম্পানির নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানটির কেনাকাটা, মুনাফা এবং ঋণের সুদসহ বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের গরমিল খুঁজে পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ডিএসই-র ওয়েবসাইটে এই নিরীক্ষা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।
নিরীক্ষক জানিয়েছেন, ন্যাশনাল ফিড মিলস তাদের আর্থিক প্রতিবেদনে ৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকার কাঁচামাল ক্রয়ের কথা বললেও ভ্যাট রিটার্নে তা ১০ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ কোম্পানিটি প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকার ক্রয় হিসাব কম দেখিয়েছে। এর ফলে কোম্পানির নিট মুনাফা ও শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) প্রকৃত অংকের চেয়ে অনেক বেশি প্রদর্শিত হয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বিশাল অংকের কেনাকাটার বিপরীতে কোনো লেজার, ভাউচার বা প্রমাণপত্র নিরীক্ষককে দেখাতে পারেনি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি ব্যাংক এশিয়া থেকে নেওয়া ২৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকার ঋণের কোনো স্টেটমেন্ট বা বিবরণী নিরীক্ষককে সরবরাহ করেনি। আর্থিক বিবরণীতে সুদের খরচ ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা কম দেখিয়ে মুনাফাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছে। এছাড়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ বা ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার সমন্বয়ের বিষয়েও কোনো উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কোম্পানিটির শ্রমিক মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিলে ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা জমা থাকলেও তা কয়েক বছর ধরে শ্রমিকদের পরিশোধ করা হচ্ছে না। এছাড়া তিন বছরের বেশি সময় ধরে অবণ্টিত বা আনক্লেমড ডিভিডেন্ড বাবদ ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে হস্তান্তরের নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি। উল্টো সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকার ঘাটতি পাওয়া গেছে।
২০২৫ সালের জুন শেষে কোম্পানির গুদামে ৫৫ কোটি ৩১ লাখ টাকার পণ্য বা ইনভেন্টরি থাকার কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী ইনভেন্টরি ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট বা মালামাল গণনার কোনো শিট নিরীক্ষককে দেওয়া হয়নি। এমনকি কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের অসযোগিতার কারণে মালামালের বাস্তব উপস্থিতিও যাচাই করতে পারেনি নিরীক্ষক দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *