শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
আজকের সংবাদ

“নীতিসুদের হার অপরিবর্তিত, হতাশায় সপ্তাহ শেষে শেয়ারবাজারে পতন”

বাংলাদেশ ব্যাংকের পলিসি রেট বা নীতিসুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ভঙ্গ হওয়ায় দর পতনের মধ্য দিয়ে সপ্তাহ শেষ করেছে দেশের শেয়ারবাজার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে মুদ্রানীতি শিথিল করে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার আশা থাকলেও, বর্তমান নীতি বজায় রাখায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিক্রয়ের চাপ ও হতাশা দেখা দেয়।

ডিএসই তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৭ পয়েন্ট বা ০.৩১ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৭৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। একই সময়ে বাছাই করা ব্লু-চিপ শেয়ারের সূচক ডিএস৩০ মোট ১০ পয়েন্ট হারিয়ে ২ হাজার ১১৩ পয়েন্টে স্থির হয়। লেনদেনে দরপতনের পাল্লাই ছিল ভারী—১৯০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে, বিপরীতে বেড়েছে ১৪১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৭টির দর। ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ১১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৫৬ কোটি টাকায়, যা ব্যক্তিশ্রেণী ও প্রাতিষ্ঠানিক উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।

ব্রোকারেজ হাউসগুলোর বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাজারে শুরুর দিকে ইতিবাচক গতি থাকলেও নীতিসুদের খবর আসার পরই সূচক টানা নামতে থাকে। দিনের এক পর্যায়ে ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৬৩১ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠলেও পরবর্তীতে প্রফিট টেকিং বা মুনাফা তোলার হিড়িকে সূচকটি সর্বনিম্ন ৫ হাজার ৫৭৮ পয়েন্টে নেমে দিন শেষ করে। ইবিএল সিকিউরিটিজ জানায়, বাজার নিজের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধরে রাখার আত্মবিশ্বাস পাচ্ছিল না; ফলে নতুন করে দরপতনের মুখে পড়ে।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মনিটরিং পলিসি কমিটির (এমপিসি) বৈঠকে নীতিসুদের হার ৯.৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পর্যালোচনার জন্যই এ সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিম্নমুখী হলেও তা ২০২৭ অর্থবছরের সাড়ে ৭ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। পাশাপাশি নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক দাম নিয়ন্ত্রণকেই মূল অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *