লাভেলো আইস-ক্রিম পিএলসি; যেখানে নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ
বর্তমানে কোম্পানিটিতে কেউ বিনিয়োগ করলে সেই বিনিয়োগ লভ্যাংশের আকারে উঠিয়ে নিতে তাঁর প্রায় ৬৭ বছর সময় লেগে যাবে, যা মোটেও সমীচীন নয় বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজার
অভিযোগ রয়েছে, কোম্পানিটির মালিক পক্ষ শেয়ারটির দর গত বছরের (২০২৪) মাঝামাঝি সময়ে কারসাজির মাধ্যমে বাড়িয়েছিল। সে-সময় কোম্পানিটির অধিকাংশ সাধারণ বিনিযোগকারী বিষয়টি বুঝতে পারেননি। ফলে অধিক দামে কোম্পানিটির শেয়ার কিনে কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে তাদের। এতে করে তারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, গত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ২০.৯০ টাকা বেড়েছে। যা অস্বাভাবিক বলছেন শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা
কোম্পানিটির এই শেয়ার দর বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক বলছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাদের ধারণা কোম্পানিটির শেয়ারটি আবারও কারসাজির আওতায় রয়েছে। এখানে কারসাজিকারকরা শেয়ারটি ম্যানুপুলেট করে দর বৃদ্ধি করছে। এই সময়ে সাধারণ বিনিযোগকারীরা শেয়ারটি কিনলে পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইকবাল হোসেন ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইস-ক্রিমে বিনিযোগ করা ঝুঁকিপূর্ণ। আনুমানিক দেড় বছর আগে কোম্পানিটির মালিক পক্ষ সরাসরি কোম্পানিটির শেয়ার কারসাজি করে বাড়িয়েছিল। সে-সময় তাদের খপ্পরে পড়ে অনেক বিনিয়োগকারী সর্বশান্ত হয়েছিলেন। আমিও তাদের খপ্পরে পড়েছিলাম। তবে আমি দ্রুত শেয়ার সেল করে বেরিয়ে গেছি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.জি.এম সাত্তিক আহমেদ শাহ্ ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, কোম্পানিটির শেয়ার দর বৃদ্ধির বিষয়টি ভালোভাবে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দিন দিন কোম্পানিটির মুনাফা কমতে শুরু করেছে। অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০২৪) তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইস-ক্রিমের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৯১ টাকা। আর একই অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০২৪) কোম্পানিটির ইপিএস এসে দাঁড়িয়েছে ০.৬১ টাকা। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় কমেছে ০.৩০ টাকা বা ৩৩ শতাংশ।
এসব বিষয়ে জবাব পেতে তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইস-ক্রিমের কোম্পানি সচিব মহিউদ্দিন সরদারকে একাধিকবার ফোন করা হয় এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি কোনো কিছুতে রেসপন্স করেনি।
একইভাবে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. একরামুল হককে একাধিকবার ফোন করার পাশাপাশি ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনিও কোনো রেসপন্স বা সাড়া দেননি।
এছাড়াও একই বিষয়ে কোম্পানির সিইও ইঞ্জিনিয়ার মো. কামরুজ্জামানকে ফোন ও ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
উল্লেখ্য, তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইস-ক্রিমের পরিশোধিত মূলধন ৯৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ শেয়ার রয়েছে, যার মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার রয়েছে ৩৮.৬৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ২২.৮২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ৩৮.৫২ শতাংশ
