বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
অনুসন্ধানী রিপোর্ট

সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন আজ বুধবার

শেয়ারবাজারে কারসাজি, প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য রয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এর আগে গত ২৭ জুলাই মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে দুদক প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত নতুন করে ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন। ফলে আজকের কার্যক্রমে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয় কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক আবুল খায়ের ওরফে হিরু, তাঁর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ. মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভীর নিজাম।

মামলার নথি অনুযায়ী, আসামিদের বিরুদ্ধে নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব ব্যবহার করে ধারাবাহিক ও সন্দেহজনক লেনদেন, প্রতারণামূলক ট্রেডিং এবং শেয়ারবাজারে কারসাজির মাধ্যমে নির্দিষ্ট কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে প্রভাবিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

দুদকের মামলায় মোট ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার নথিতে এই অর্থকে অপরাধলব্ধ অর্থ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

মামলার অন্যতম আসামি আবুল খায়ের ওরফে হিরুর বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সহায়তায় অর্থের উৎস গোপন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নামে পরিচালিত ১৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫৪২ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স ও সোনালী পেপারসের শেয়ারে আবুল খায়ের হিরুর কারসাজির অভিযোগ রয়েছে। এসব কোম্পানির শেয়ারে সাকিব আল হাসান বিনিয়োগ করেছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব লেনদেনের মাধ্যমে সাকিব ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা ‘রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইন’-এর মাধ্যমে অপরাধলব্ধ আয় হিসেবে অর্জন করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

সাকিবের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত অভিযোগ এর আগেও আলোচনায় এসেছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার কারসাজির ঘটনায় সাকিবকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে সাকিব পরে নিজের বক্তব্যে শেয়ারবাজারে কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি নিজে কারসাজি করেছেন—এমন প্রমাণ দেখানো হলে তিনি দায় নিতে প্রস্তুত।

২০২৫ সালের জুনে দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত একাধিকবার সময় নির্ধারণ করেন।

এখন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুদকের তদন্তে কী তথ্য পাওয়া গেছে, কার বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রমাণ বা তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে এবং মামলাটি পরবর্তী কোন পর্যায়ে যাবে—সেসব বিষয় স্পষ্ট হতে পারে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন বা অভিযোগের ভিত্তিতে কারও অপরাধ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি বলা যাবে না; বিষয়টি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *